কোভিড-১৯ এবং ভাইরাস প্রতিরোধী ফ্যাব্রিক

সম্ভবত বর্তমান পৃথিবীতে সর্বাধিক উচ্চারিত শব্দ যা নতুন আবিষ্কৃত করোনভাইরাসঘটিত একটি সংক্রামক রোগ।যেহেতু এখনও এই ভাইরাসের কোনও প্রতিষেধক আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি, তাই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবায় কাজ করা স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের সুরক্ষার জন্য ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জামই (পিপিই)বর্তমানে এই প্রানঘাতি ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের একমাত্র অস্ত্র। তবে পিপিই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হচ্ছে: সরঞ্জামের ঘাটতি। এবং প্রাপ্ত সরঞ্জামের অনুপযুক্ত ব্যবহার যা সংকটকে আরও মারাত্মক করে তুলছে।

কিন্তু যদি পিপিই প্রস্তুতকারী কাপড়টিই ভাইরাসরোধী হতো তাহলে কি চমৎকারই হতো না? কারণ এইরকম ভয়াবহ পরিস্থিতিতে প্রতিষেধক টিকা ছাড়া কেবল অ্যান্টি-ভাইরাল পোশাকের আবিষ্কারই পারে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানুষের এই যুদ্ধে আমাদের আরও এক ধাপ এগিয়ে রাখতে। যদি প্রকৃতপক্ষেই ভাইরাসরোধী কাপড় তৈরি করা সম্ভব হয়, তবে এটি যে শুধু করোনায় সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের রক্ষা করবে তাই নয় বরং করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধেও কার্যকরী হবে।

সম্ভবত এমনি ব্যতিক্রমী চিন্তা থেকে ন্যানোটেক ভাইরাসরোধী টেক্সটাইল উদ্ভাবনে কাজ করছে যা কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমাদের সহায়তা করতে পারে। সোনোভিয়া লিমিটেড।
যা ইসরাইলের একটি স্টার্ট-আপ সংস্থা, যারা দাবি করছে যে, তাদের প্রস্তুতকৃত টেক্সটাইলগুলি ব্যাকটিরিয়া এবং ছত্রাক প্রতিরোধী।
সংস্থাটি এও আশা করছে যে এই একই প্রযুক্তি ভাইরাসের বিরুদ্ধেও কাজ করবে। ইতোমধ্যেই সংস্থাটি পরীক্ষার জন্য চীনে তাদের প্রস্তুতকৃত টেক্সটাইলের কিছু নমুনা প্রেরণ করেছে।
সংস্থাটির তথ্য মতে ইসরাইলের বার-ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ের পেটেন্টকৃত ন্যানো টেকনোলজি প্রক্রিয়া ব্যবহার করে তারা যে মাস্ক ও প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম তৈরি করেছে তা ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকরোধে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

সংস্থাটির উন্নয়ন কর্মকর্তা জেসন মিগডাল বলেন যে,তিনি বিশ্বাস করেন এই পদ্ধতি একইসাথে ভাইরাসরোধে এবং করোনাভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে কার্যকরী হতে পারে।
সোনোভিয়া ইতিমধ্যে জিংক অক্সাইট ন্যানো পার্টিকেলগুলির যান্ত্রিক সম্পৃক্তির জন্য একটি আল্ট্রাসনিক ফ্যাবিক ফিনিশিং প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে যা স্থায়ীভাবে কাপড়গুলোতে শক্তিশালী অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ভাইরাল এজেন্ট হিসাবে পরিচিত।
এমনকি সোনোভিয়ার এই প্রযুক্তি Horizon 2020 Program এর আওতায় সম্প্রতি ইউরোপীয় কমিশন থেকে ২.৪ মিলিয়ন ইউরো অনুদান পেয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরের শীর্ষস্থানীয় সংস্থা জাবের এন্ড জুবায়ের করোনাভাইরাস প্রতিরোধক কাপড় তৈরি করেছে। বিশেষ রাসায়নিকের তৈরি এই ফ্যাব্রিকটিতে করোনা ভাইরাসসহ অন্য কোনও ভাইরাস টিকে থাকতে পারবে না বলে সংস্থাটি দাবি করেছে।
যদি কোনোভাবে কোনো ভাইরাস এই কাপড়ে লাগে, তবে কাপড়টি কেবল ১২০ ​​সেকেন্ডের মধ্যেই ৯৯.৯ শতাংশ ভাইরাস মুক্ত হয়ে যাবে।

জাবের এন্ড জুবায়েরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ১৪ই মে ২০২০ তারিখে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানিয়েছে। তারা আরও জানান যে, তাদের পোশাকটি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি ISO-18184 এর অধীনে পরীক্ষা করা হয়েছে। নিঃসন্দেহে এই অর্জন বাংলাদেশের জন্য বহির্বিশ্বে তৈরী পোশাক খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করবে।

Reference:
1.https://statnano.com/
2. TBSNEWS.NET


Khadiza Newaz
Department of TMDM, 44th Batch
Bangladesh University of Textiles (BUTEX)

No comments

Powered by Blogger.